ক্রীড়া ভাতা / এনআইডি না থাকা ক্রীড়াবিদদের হাতে চেক তুলে দিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী
Table of Contents
এনআইডি না থাকায় ভাতা তুলতে না পারা ২১ ক্রীড়াবিদ পেলেন চেক
Banglalight.com – ক র ড় ভ ত এনআইড – জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নিয়মিত ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ক্রীড়া ভাতা নিতে না পারা অপ্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়াবিদদের একটি অংশের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পঞ্চম তলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩২ জনের মধ্যে উপস্থিত ২১ ক্রীড়াবিদকে তাদের বরাদ্দের অর্থ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সরকার ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং খেলাধুলায় তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে ক্রীড়া কার্ড ও মাসিক ভাতার কর্মসূচি চালু করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের জন্য মাসে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, আর সেই কারণেই তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ বা অনুরূপ সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
দুই ধাপে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা
গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। ওই তালিকায় ছিলেন ৭৪ জন নারী এবং ৫৫ জন পুরুষ ক্রীড়াবিদ। একই সময় তাদের মাসিক ১ লাখ টাকার ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়।
পরবর্তী ধাপে ১৯ এপ্রিল আরও ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া কার্ড ও ভাতার আওতায় আসেন। দ্বিতীয় দফার তালিকায় ১০৫ জন পুরুষ ও ৬৬ জন নারী ছিলেন। সব মিলিয়ে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ৩২ জন ক্রীড়াবিদ অর্থ হাতে পাননি; ভাতা বাতিল হয়নি, বরং অর্থ গ্রহণের পদ্ধতিগত জটিলতাই ছিল মূল বাধা।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা একটি বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব চালুর ক্ষেত্রে এনআইডির প্রয়োজন হওয়ায় তাদের নামে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সরাসরি চেক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগের আশ্বাস
অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, সরকার খেলাধুলার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ খাতে বিশেষ আগ্রহী। ক্রীড়াবিদরা যাতে অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা কাটিয়ে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় মন দিতে পারেন, সে লক্ষ্য থেকেই কার্ড ও ভাতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আমরা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও খেলাধুলায় বিশেষ আগ্রহী। তিনিও চান দেশের খেলাধুলার সত্যিকার উন্নয়ন। তাই তিনি ক্রীড়াবিদদের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান।”
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৮ বছরের নিচের ক্রীড়াবিদদের ব্যাংক হিসাব না থাকায় বরাদ্দের অর্থ নিয়মিতভাবে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
“১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, সেই ক্রীড়াবিদরা যাতে ক্রীড়া ভাতা ব্যাংক থেকে নিতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে কথা বলবো। দেখি বিকল্প কিছু করা যায় কিনা। আশা করি তাতে করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।”
এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ক্রীড়াবিদ জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি বা নিয়মিত প্রশিক্ষণে যুক্ত, তাদের জন্য সময়মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বীমা ও চিকিৎসাসেবার কথাও জানালেন প্রতিমন্ত্রী
ক্রীড়া কার্ডধারীদের জন্য বীমা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে সামনে আসে। আমিনুল হকের ভাষ্য, কার্ডের সঙ্গে থাকা সুযোগ-সুবিধার অংশ হিসেবে এই দুই সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
“যে সব ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া কার্ড পাবেন, সেই কার্ডে পাওয়া সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ইন্স্যুরেন্স আর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশে যথাযথ পরিচর্যার বিকল্প নেই। সরকারের লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়; আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ের সক্ষমতা তৈরি করাও সমান জরুরি।
“আমরা চাই দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন। ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার যথার্থ পরিচর্যা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা আগামীতে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।”
১৩ থেকে ১৪টি ডিসিপ্লিনে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি
এশিয়ান গেমসের পর ১৩ বা ১৪টি খেলাকে অগ্রাধিকারের তালিকায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান আমিনুল হক। কোন কোন ইভেন্টে বাংলাদেশের মহাদেশীয় পর্যায়ে পদক পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তা যাচাই করে সেসব খেলায় নিবিড় বিনিয়োগ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে স্বল্প সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। বছরজুড়ে চলমান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি গড়ে তোলা হবে। এরপর এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক গেমসে পদকের জন্য লড়াই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
“আগামীতে শুধু অংশগ্রহণের জন্য অংশ নেয়া না। আমরা এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক গেমসে পদক জয়ের জন্য লড়বো।”
ক্রীড়ার অবকাঠামো বিস্তারের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। সারা দেশের ৪৫৯৯ ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনে একটি করে মাঠ নির্মাণ অথবা বিদ্যমান মাঠ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া ভাতা হাতে পাওয়া তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এই উদ্যোগ তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও ইঙ্গিত বহন করে। আর এনআইডি-সংক্রান্ত জটিলতার একটি কার্যকর সমাধান হলে, তালিকাভুক্ত সব অপ্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়াবিদ নিয়মিতভাবে তাদের প্রাপ্য ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক র ড় ভ ত এনআইড?
ক র ড় ভ ত এনআইড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক র ড় ভ ত এনআইড matter?
ক র ড় ভ ত এনআইড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.