Country

শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব, ২৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

og_1789017496_6aa23d989a701
Foto : Karen Davis - banglalight.com
Table of Contents
  1. শেরপুরের সবজি চাষে বাড়ছে উৎপাদন ও আয়ের সম্ভাবনা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

শেরপুরের সবজি চাষে বাড়ছে উৎপাদন ও আয়ের সম্ভাবনা

Banglalight.com – শ রপ র সবজ ত ন রব – সীমান্তঘেঁষা শেরপুরে সবজি চাষ এখন অনেক কৃষকের আয়ের প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে। জেলার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে করলা, লাউ, বেগুন, মরিচ, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, কচু ও অন্যান্য সবজি। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে পাঁচ উপজেলায় উৎপাদিত সবজির বাজারমূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, এ মৌসুমে শেরপুরে ৩ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এই কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার। অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক এবার আগের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের প্রত্যাশা করছেন।

প্রবাসফেরত হাশেম আলীর কৃষিতে নতুন শুরু

শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি গ্রামের হাশেম আলী প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন। প্রথমে ২৫ শতাংশ জমিতে ইয়োলো লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে লাভ পাওয়ার পর তিনি আরও নানা ধরনের সবজির আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর জমিতে বেগুন, টমেটো, বরবটি, মরিচ, করলা, ঝিঙা ও লাউ রয়েছে।

“ইয়োলো লেডি জাতের পেঁপে আবাদ করেছি ২৫ শতাংশ জমিতে। বাজার ও ফলন ভালো পাওয়ায় লাভ হয়েছে। তাই একইসঙ্গে করলা, ঝিঙা ও লাউয়ের আবাদ করেছি। ৭০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি করেছি করলা। আর এখন এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ডিজি ১৭১৭ জাতের মরিচ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও খুব ভালো হয়েছে।”

মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষের মাধ্যমে হাশেম আলী আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার দিকেও ঝুঁকেছেন। কৃষকদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, একই জমিতে পরিকল্পিতভাবে একাধিক ফসল ফলালে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রির সুযোগ বাড়ে এবং একটি ফসলে দাম কমলেও অন্য ফসল থেকে কিছুটা আয় নিশ্চিত করা যায়।

ভালো দামে হাসি কৃষকের মুখে

কুসুমহাটির আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার মিয়া করলা, লাউ, কদু ও বেগুন চাষ করেছেন। তাঁর খেতে উৎপাদিত করলা কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আকারভেদে দেশি লাউ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, আর বেগুনের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০ টাকা।

“৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে করলা বিক্রি করছি। আকার ভেদে দেশি জাতের লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন বিক্রি করছি ৫০ টাকা কেজিতে। এবার অন্যান্য বারের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে।”

চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া গ্রামের ছামিদুল হক এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। একইভাবে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম করলার পাশাপাশি বরবটি উৎপাদন করেন। তাঁর করলা কোনো কোনো সময়ে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বড়ডুবি গ্রামের সালাম মিয়া নিচু জমিতে কচু চাষ করেছেন। দেড় বিঘা জমির কচু ও কচুর লতি বিক্রি করে তিনি ভালো দাম পেয়েছেন। তাঁর উৎপাদিত কোনো কচুই ৫০ টাকার কমে বিক্রি হয়নি। নিচু জমির উপযোগী ফসল বেছে নেওয়ায় এ ধরনের জমিও কৃষকের কাছে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগছে।

সবজি গ্রামের উৎপাদন শক্তি

ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রাম স্থানীয়ভাবে সবজি গ্রাম নামে পরিচিত। সেখানে প্রায় একশ কৃষক নিয়মিত সবজির আবাদ করেন। পাহাড়ি ঢলে কিছু জমিতে ক্ষতি হলেও সামগ্রিকভাবে এবার উৎপাদন হয়েছে ভালো। বাজারে চাহিদা থাকায় গোমড়ার কৃষকেরাও লাভবান হয়েছেন।

“আমাদের এখানে প্রায় শতাধিক কৃষক সবজি আবাদ করে। পাহাড়ি ঢলে কিছুটা ক্ষতি হলেও এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। আর বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরাও লাভবান হয়েছে।”

ঝিনাইগাতীর মাটি সবজি উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় সেখানে মৌসুমভেদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হয়। শুধু এ উপজেলাতেই একেক মৌসুমে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার সবজি আবাদ হয়। উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা, জমির উপযোগিতা এবং বাজারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।

মধ্যস্বত্বভোগী কমানোর দাবি

ভালো ফলন ও বাজারদর থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক কৃষকদের বড় উদ্বেগ বিপণন ব্যবস্থা নিয়ে। খেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে বাজারে পৌঁছানোর পথে মধ্যস্বত্বভোগীদের অংশ নেওয়ায় উৎপাদক পর্যায়ে লাভ কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করেন। কৃষকদের চাওয়া, রাজধানী ও দেশের অন্যান্য বড় মোকামের ব্যবসায়ীরা যেন সরাসরি মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে এবং বড় বাজারের ক্রেতাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনও দেশের বড় সবজি আড়তদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃষকের খেত থেকে সরাসরি কেনাবেচার সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী।

শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ্ব আরিফ হাসান মনে করেন, কৃষিনির্ভর এ জেলায় সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের লাভ আরও বাড়বে। উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপ কার্যকর হলে কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া এবং ভোক্তার কাছে নিয়মিত সরবরাহ—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এক মৌসুমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার সবজি বিক্রির সম্ভাবনা শেরপুরের কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলন ধরে রাখা, বাজারে সরাসরি প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং প্রান্তিক চাষিদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে জেলার সবজি খাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is শ রপ র সবজ ত ন রব?

শ রপ র সবজ ত ন রব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does শ রপ র সবজ ত ন রব matter?

শ রপ র সবজ ত ন রব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment