সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ১১০ বছরের পুরোনো, ডাবল লাইন করার দাবি
Table of Contents
শতবছরের পুরনো রেললাইনে ধুঁকে ধুঁকে ট্রেন: সিলেট-আখাউড়া করিডোরের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন
Banglalight.com – স ল ট আখ উড র লপথ – ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য একজন যাত্রীকে এখন প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পাহাড়ে ট্রেন থেমে থাকে, রেল ক্রসিং-এ লম্বা লাইন জড়িয়ে থাকে, আর মাঝপথে ছোটো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই একাধিক ট্রেনের পুরো শিডিউল ভেঙে যায়। এই যাত্রার পিছনে লুকিয়ে আছে এক শতাব্দী পুরনো অবকাঠামোর গল্প — যেখানে ব্রিটিশ আমলের তৈরি রেললাইন আজও একই পথে, একই অবস্থায় চলছে।
১৯১২-এর পণ্য-পরিবহন প্রকল্প থেকে আজকের যাত্রী-বহন সংকট
সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ইতিহাস শুরু হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় পাঁচ দশক আগে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত এই ২৩৯ কিলোমিটারের রেললাইন নির্মাণ করা হয়, মূল উদ্দেশ্য ছিল পণ্য পরিবহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যের পাশাপাশি যাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকে, আর সিলেট অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে ট্রেন ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। কিন্তু শতবছর পেরিয়ে গেলেও এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দিকে কোনো মানে হয়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রেলসেবায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সিলেট-আখাউড়া করিডোর সেখান থেকে বঞ্চিত।
অবকাঠামোর অবস্থা: সুতো-বাঁধা বল্টু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রেন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলেও বেশিরভাগ জায়গায় রেললাইনের নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট ও ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অনুপস্থিত। মাঝেমধ্যে এই যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। অনেক স্থানে বল্টুর বদলে সুতো দিয়ে বাঁধা রাখা হয়েছে। শতবছরের পুরাতন সেতুগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, ফলে লাইন দুর্বল হয়ে বিভিন্ন ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে। প্রতিবছর এই পথে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। জনবল ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে একের পর এক লোকাল ট্রেন ও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষ প্রকৃত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিন দশকের দাবি বনাম সরকারের ডুৱেলগেজ পরিকল্পনা
গত তিন দশক ধরে এ অঞ্চলের মানুষেরা সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্প্রতি সরকার এই রেলপথ ডুৱেলগেজ করার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্রে জানা যায়, মিটারগেজ থেকে ডুৱেলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। ডুৱেলগেজ বাস্তবায়িত হলে এই পথে একসঙ্গে দুটি ট্রেন চলতে পারবে এবং নতুন ট্রেন দ্রুত গতিতে চলাচল করবে।
তবে স্থানীয় যাত্রী ও নাগরিকদের মতে, ডুৱেলগেজ বা ব্রডগেজ একাধিক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান দেবে না। রেল ক্রসিং-এর দীর্ঘ অপেক্ষা, পাহাড়ে ইঞ্জিন দুর্বলতার কারণে থমথমে চলাচল — এসব সমস্যা ডাবল লাইন ছাড়া সমাধানের পথ নেই।
শুনেছি লাইন ব্রডগেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে আমরা চাই ডাবল লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে করে এই অঞ্চলের সমস্যা চিরস্থায়ী সমাধান হবে।
এ কথা বলেন ঢাকা-সিলেট রেলপথের নিয়মিত যাত্রী ও সচেতন নাগরিক মুহাম্মদ খান। তিনি যোগ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে আগের মতোই ঝুঁকি থেকে যাবে, ক্রসিং সমস্যাও থেকেই যাবে। লাইন ব্রডগেজ হলে ট্রেনের গতি বাড়বে, তবে পুরোনো সমস্যা থেকেই যাবে।
ব্যবসায়ীর দৈনন্দিন যন্ত্রণা
ব্যবসায়িক কাজে আমরা নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করি। তবে ট্রেনের দুর্ভোগের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন বাসে যাতায়াত করেন। কারণ বেশিরভাগ ট্রেন পাহাড়ি এলাকায় চলতে পারে না। রেল ক্রসিং-এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কারণে ছোটো দুর্ঘটনা হলেও একসঙ্গে অনেকগুলো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়। এসব সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র রাস্তা আর তা হলে সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা।
এই মন্তব্য শমশেরনগর স্টেশনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী গিলমান আহমেদের।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অবস্থান
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় জানান, ডাবল লাইন হবে কিনা তা তাদের জানা নেই। তবে তারা শুনছেন আখাউড়া-সিলেট রেলপথকে ব্রডগেজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে নতুন ও পুরাতন দুটি ট্রেন চলতে পারবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে সিলেট-আখাউড়া রেললাইনকে মিটারগেজ থেকে ডুৱেলগেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই লাইন ডুৱেলগেজ হলে নতুন ট্রেন সংযোজন করা হবে, ফলে এ লাইনে ভিন্ন মাপের দুটি ট্রেন একসঙ্গে চলতে পারবে।
ডাবল লাইন বনাম ডুৱেলগেজ: পার্থক্য যেখানে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন
ডুৱেলগেজ মানে একই পথে দুই ধরনের গেজের ট্রেন চলাচলের সুবিধা দেওয়া। কিন্তু ডাবল লাইন মানে আলাদা দুটি পথ তৈরি করা, যাতে একই সময়ে বিপরীত দিকে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারে। স্থানীয় মানুষের যুক্তি হলো, ডুৱেলগেজ করলেও একই পুরনো, দুর্বল, ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের ওপরই ট্রেন চলবে — ক্রসিং-এর অপেক্ষা, পাহাড়ে থমথমে গতি, সেতুর অবক্ষয় — এসব সমস্যা থেকেই যাবে। ডাবল লাইন হলে এই সমস্যার বৈশিষ্ট্যগত সমাধান সম্ভব, এবং ঢাকা-সিলেট যাত্রার সময় প্রায় অর্ধেক কমে যাবে।
শতবছরের পুরনো অবকাঠামো, তিন দশকের অপূরণীয় দাবি, প্রতিদিনের যাত্রী-যন্ত্রণা এবং সরকারের ডুৱেলগেজ পরিকল্পনার মধ্যে এই অঞ্চলের মানুষ এখন একটা কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি: তাদের নিরাপত্তা আর সময়ের মূল্য কি একটা গেজ-পরিবর্তন প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই একটা নতুন পথ খোলা হবে?
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ল ট আখ উড র লপথ?
স ল ট আখ উড র লপথ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ল ট আখ উড র লপথ matter?
স ল ট আখ উড র লপথ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.