Entertainment

সাবিনা ইয়াসমীনের যে গান শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি লতা মঙ্গেশকর

og_1788515702_6a9a9576bbd59
Foto : Charles Brown - banglalight.com
Table of Contents
  1. সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিন: এক কিংবদন্তির স্মৃতি-সংকট
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিন: এক কিংবদন্তির স্মৃতি-সংকট

Banglalight.com – স ব ন ইয় সম ন র – ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর — এই তারিখটি বাংলাদেশের সংগীত-ইতিহাসে একটি অমোহন দাগ রেখে গেছে। এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়িকা সাবিনা ইয়াসমীন। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। যিনি মাত্র তেরো বছর বয়সে স্ক্রিনের পর্দার আড়ালে গানের জগতে প্রবেশ করেন, তিনি আজ দশ হাজারেরও বেশি গানের মালিকানা দাবি করে দেশের সংগীত-আকাশে এক অনন্য স্থান দখল করে রেখেছেন।

তেরো বছরের সেই প্রথম সুর

১৯৬৭ সালে জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’-তে আলতাফ মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় সাবিনার প্রথম প্লেব্যাক রেকর্ড হয়। তখন তাঁর বয়স মাত্র তেরো। সেই একক মুহূর্ত থেকে শুরু হয়েছিল এমন একটি পথ, যা আজ তাঁকে দেশের সংগীত-অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কালজয়ী অসংখ্য গানের মাধ্যমে শ্রোতার অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন এই গায়িকা।

১৯৭৮: মুম্বাইয়ের সেই স্মরণীয় সন্ধ্যা

জন্মবার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে আজ আবার ভাসে এক পুরনো ঘটনার ছায়া। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সাবিনা ইয়াসমীন মুম্বাই যান। উৎসবের আয়োজনে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতায় সফর করে। সেই দলে ছিলেন ববিতা, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, কাজী জহিরসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।

মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে হারমোনিয়াম হাতে গান পরিবেশনের সুযোগ পান সাবিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মণ। তিনি সাবিনাকে বাংলাদেশের একটি গান গাওয়ার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধে সাবিনা পরিবেশন করেন ‘নাইনে নাওের বাদাম তুইলা’। কোনো বাদ্যযন্ত্রী ছাড়াই, একা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানটি উপস্থাপন করেন তিনি।

গান চলছিল, শচীন দেব বর্মণ মাথা নিচু করে শুনছিলেন। শেষ নোটটি পড়ার পর যখন তিনি মাথা তুললেন, সাবিনার চোখে পড়ল তার দুই চোখ দিয়ে ঝরছে পানি। শচীন দেব বর্মণ সাবিনাকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ দেন।

লতা মঙ্গেশকরের প্রবেশ: ভয় আর সাহসের সংঘাত

সেই মুহূর্তের পরই ঘটে যায় আরও একটি অমোহন দৃশ্য। সাবিনা যখন আরেকটি গানে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, করিডর দিয়ে দেখতে পান লতা মঙ্গেশকরকে আসতে। উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়িকাকে চোখের সামনে দেখে ভয়ে হারমোনিয়াম ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যান সাবিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভয়কে পেরিয়ে লতার সামনে গান গাইতেই হয় তাকে।

প্রথমে পরিবেশন করেন ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’। গান শেষে লতা তাঁর কণ্ঠ ও গায়কির ভূমিকা প্রশংসা করেন। সেই প্রশংসায় স্বাভাবিকভাবেই লজ্জায় লাল হয়ে যান সাবিনা।

তারকা-ভরা সেই মঞ্চ

সেদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি। ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, ছিলেন রাজ কাপুর। সাবিনার গান শুনে রাজ কাপুর তাকে

আওয়াজ কি দেবী

বলে অভিহিত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে শচীন দেব বর্মণ সাবিনা ইয়াসমীন ও লতা মঙ্গেশকরকে দুই পাশে দাঁড় করিয়ে জড়িয়ে ধরে তিনটি ছবি তোলেন। সেই তিনটির একটি এখনো সাবিনার কাছে সংরক্ষিত। বাকি দুটি আজও তাঁর হাতের নাগালে আসেনি।

লতার সেই কথা: বাংলা ভাষার প্রতি আকর্ষণ

সেদিন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপও হয় সাবিনার। লতা জানিয়েছিলেন, বাংলা গান গাইতে তাঁর খুব ভালো লাগে। বাংলা ভাষাটি তাঁর কাছে অত্যন্ত মিষ্টি মনে হয় বলেও জানান এই কিংবদন্তি। সাবিনা ইয়াসমীন আজও সেই স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হন। তিনি মনে করেন, লতার চলে যাওয়া উপমহাদেশের সংগীতজগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

দেশাত্মবোধক গানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী

দেশের গান এই শিল্পীকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। তাকে নিয়ে গেছে মানুষের মনের মনিকোঠায়। দেশাত্মবোধক গানের ক্ষেত্রে সাবিনা ইয়াসমীনকে বলা যায় — অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ পর্যন্ত বহু দেশের গান গেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’, ‘ও আমার বাংলা তোর’, ‘একটি বাংলাদেশ’, ‘ও মাঝি নাও ছাইয়া দে’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ ও ‘যদি মরণের পরে কেউ প্রশ্ন করে’।

দশ হাজারেরও বেশি গান: সংখ্যা যা নিশ্চিত নয়

সাবিনা ইয়াসমীন নিজেও বলতে পারেন না তাঁর গানের সঠিক সংখ্যা কত। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি অন্তত দশ হাজার গান গেয়েছেন। সেসবের বেশিরভাগই জনপ্রিয়। ‘এ কী সোনার আলোয়’, ‘প্রেম যেন এক গোধুলি বেলার’, ‘যদি আমাকে জানতে সাধ হয়’, ‘এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে’, ‘মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’, ‘শুধু গান গিয়ে পরিচয়’, ‘এ আধার কখনো যাবে না’, ‘জানি না সে হৃদয় কখন এসেছে’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, ‘ইশারার শীষ দিয়ে আমাকে ডেকো না’, ‘এ সুখের নেই কোনো ঠিকানা’ — গানগুলো সেই তালিকার শুরুর দিকেই রাখা যাবে।

সম্মাননা ও পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন সাবিনা ইয়াসমীন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, উত্তম কুমার পুরস্কার, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, শেরে বাংলা স্মৃতি পদক। সিনেমার গানের জন্য তিনি চৌদ্দ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

তেরো বছরের সেই প্রথম সুর থেকে আজকের এই উচ্চতা — পথটি দীর্ঘ, কঠিন, অথচ অবিচল। সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানাই।

Frequently Asked Questions

What is স ব ন ইয় সম ন র?

স ব ন ইয় সম ন র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ব ন ইয় সম ন র matter?

স ব ন ইয় সম ন র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment