ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত, দেশীয় গাছ রোপণে গুরুত্ব
Table of Contents
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাপ্ত তিন দিনের ‘গ্রিন নেক্সাস ২০২৬’ কর্মসূচি
Banglalight.com – ঢ ব ত গ র ন ন – শহরজুড়ে বাতাসের মান ক্রমশ অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ ও আরবরিকালচার সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি গ্রিন নেক্সাস ২০২৬’ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে কর্মসূচির মূল বার্তা ও অর্জন তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ সংসদের প্রধান উপদেষ্টা ও আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এইচ এম জুলফিকার আলী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আসফাক আহমদ এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন হাওলাদার।
দেশীয় প্রজাতির গাছে কেন জোর
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা শহরের দূষণের বর্ধমান চিত্রের প্রতি সরাসরি স্পর্শ করা হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলফেছানী মনে করিয়ে দেন যে, শহরের জলবায়ু-সম্পর্কিত চাপ কমাতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণই কার্যকর পথ। বিদেশি বা অসম্পর্কিত প্রজাতি নয়, বরং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানসম্মত দেশীয় গাছই শহরের সবুজ ঢাল হিসেবে টেকসই ভূমিকা পালন করতে পারে।
শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
এই বক্তব্যের পেছনে একটি বৈজ্ঞানিক যুক্তি কাজ করে। রোপণের পর প্রথম তিন থেকে পাঁচ বছর গাছের বেঁচে থাকার হার নির্ভর করে সঠিক সেচ, মাটি-সমৃদ্ধতা, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং পুনরায় রোপণের প্রয়োজনীয়তার ওপর। রোপণের পরপরই গাছকে পরিত্যাগ করলে শহরের সবুজ-আবরণে কোনো টেকসই প্রভাব পড়ে না। তাই কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল রোপণের পরবর্তী দায়িত্বের ওপর।
শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানানো হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বড় পরিসরের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) বলেন:
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ ক্যাম্পাসে পরিণত করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর ক্যাম্পাসের পরিবেশগত অবস্থা শহরের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ক্যাম্পাসে বৃক্ষ-আবরণের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় তাপ-দ্বীপ প্রভাব কমে, বৃষ্টি-জল শোষণ বাড়ে এবং বাতাসের মানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে কর্মসূচির শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা যায়।
পরিবেশকর্মী দক্ষতা-সম্মাননা
কর্মসূচির সমাপনীতে পরিবেশকর্মী হিসেবে দক্ষতা প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এই পুরস্কার শুধু একটি সনদ নয়; এটি তরুণদের মধ্যে পরিবেশ-সচেতনতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার একটি প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ। তিন দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণ, মাটি-পরীক্ষা, জৈব-কম্পোস্ট তৈরি, প্লাস্টিক-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রজাতি-শনাক্তনসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রমে অংশ নেয়।
গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
‘গ্রিন নেক্সাস’ ধরনের কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবেশ-শিক্ষা ও সম্প্রদায়-সংযোগের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রবণতা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসকে একটি জীবন্ত শিক্ষণ-প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা, যেখানে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে রূপান্তরিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাস-বাইরের সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করে। আরবরিকালচার সেন্টারের যৌথ অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে একটি বহু-বিষয়ক ও আন্তঃসংস্কৃতি-সচেতন মাত্রা যোগায়।
ঢাকার বর্তমান বাতাস-মান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ধরনের কর্মসূচির তাৎপর্য আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। শহরের মোটরযান-নির্গত, শিল্প-নির্গত এবং নির্মাণ-কাজ থেকে উদ্ভূত কণা-বস্তু ও গ্যাস-নির্গত কমাতে শহুরে সবুজ-আবরণ একটি প্রমাণিত মিতigation-যন্ত্র। তাই একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবুজ-ঘনত্ব বৃদ্ধি কেবল একটি সৌন্দর্য-প্রকল্প নয়; এটি শহর-পরিসর-নিরাপত্তার একটি বাস্তবসম্মত উপাদান।
কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বিভাগীয় প্রধান ও অনুষদ-প্রধানদের উপস্থিতি দেখায় যে পরিবেশ-সচেতনতা এখন শুধু একটি বিভাগের বা সংস্থার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি শাস্ত্রীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকা-বিজ্ঞান, প্রাণরসায়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নীতি — এই সমস্ত ক্ষেত্রের অভিন্ন জ্ঞান একত্রিত হলেই একটি কার্যকর পরিবেশ-কর্মসূচি গড়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন দিনের উদ্যোগ সেই অভিন্নতার একটি ছোট কিন্তু স্পষ্ট নমুনা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঢ ব ত গ র ন ন?
ঢ ব ত গ র ন ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঢ ব ত গ র ন ন matter?
ঢ ব ত গ র ন ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.