২০ কোটি টাকায় ২৬০ জনের লক্ষ্যহীন এশিয়ান গেমস
জাপানে ২০ কোটি টাকার খরচে ২৬০ জনের বাংলাদেশ দল — কিন্তু পদকের লক্ষ্য কোথায়?
Banglalight.com – ২০ ক ট ট ক য় ২৬০ - ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে আয়োজিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এই আসরে বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে ১৮৭ জন অ্যাথলেট ও ৭৩ জন কোচ-কর্মকর্তা — মোট ২৬০ জনের বিশাল কন্টিনজেন্ট। এই যাত্রার পেছনে বসে আছে প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট। অথচ সংবাদমাধ্যমের সামনে বসে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বা কোনো ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পদক জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি। ফলে প্রশ্নটা এখন খোলা: এই বিশাল বহরের জাপান-যাত্রার আসল উদ্দেশ্য কী?
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দীর্ঘ যাত্রা
১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ 'এশিয়ার অলিম্পিক' হিসেবে পরিচিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ১২টি আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব হয়েছে। সেই দীর্ঘ যাত্রার ফসল হিসেবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের খাতায় আছে মাত্র ১৪টি পদক — যার মধ্যে একটি স্বর্ণ। সেই একমাত্র স্বর্ণ এসেছিল ২০১০ সালে চীনের গুয়াংঝুতে ক্রিকেট খেলায়। ২০২২ সালের হাংঝু গেমসেও পদকের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসে ক্রিকেটের মাধ্যমেই — ছেলে ও মেয়েদের দলে দুটি করে ব্রোঞ্জ।
মোট ১৪ পদকের মধ্যে ১৩টিই এসেছে মাত্র দুটি দলগত ইভেন্ট থেকে। কাবাডি দিয়ে ৭টি, ক্রিকেট দিয়ে ৬টি। বাকি একটি পদক বক্সিং থেকে — ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে মোশারফ হোসেন অর্জন করেছিলেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস সাফল্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে দুটি খেলার ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের ক্রীড়া-নীতির গভীর সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে।
সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হলো
গেমসের আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে অংশ নিতে যাওয়া ২২টি ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে কোনো ফেডারেশন বা বিওএর পক্ষ থেকে জোরালো ঘোষণা আসেনি। কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন এবং বিওএর সহসভাপতি ইমরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের সামনে যা বলেছেন, তা নিচে উদ্ধৃত:
গত গেমসে ব্রোঞ্জ পাওয়া ক্রিকেট এবং সেই সাথে আরচারি, শ্যুটিং ও কাবাডি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা আছে। তবে পদক পাওয়া যাবে কিনা সে নিশ্চয়তা তো নেই।
এই উক্তিই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস-নীতির সারসংক্ষেপ। কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, কোনো কনফিডেন্স-বক্তব্য — কিছুই নেই। বরং আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নানা বিতর্ক, অনুশীলনের স্বল্পতা, অপ্রয়োজনীয় লোকজনের ভ্রমণ, কর্মকর্তার কোচ-ভূমিকায় বসার মতো প্রশ্ন। শেফ দ্য মিশনকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।
বাজেটের গাণিতিক বাস্তবতা
২০ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের মধ্যে ট্রেনিংয়ে বরাদ্দ মাত্র ৪ কোটির কিছু বেশি। অর্থাৎ মোট খরচের প্রায় এক-পঞ্চমাংশও না। বাকি অর্থ যাবে ভ্রমণ, লজিস্টিক, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য অপারেশনাল খরচে। ২৬০ জনের দলের জন্য এই অনুপাত ক্রীড়া-বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের পথ প্রস্তুতের মূল ভিত্তি হলো দীর্ঘমেয়াদী, নিয়মিত, উচ্চমানের ট্রেনিং — যা এই বাজেট-বরাদ্দে সম্ভব নয়।
২২ ডিসিপ্লিনের ভিতরকারি
বাংলাদেশ এই গেমসে অংশ নিচ্ছে ২২টি ডিসিপ্লিনে: আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যাথলেট পাঠানো হচ্ছে হকিতে — পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে ৩৬ জন। ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৩০ জন এবং কাবাডিতে ২৪ জন।
মার্চ পাস্ট ও পতাকাবাহক
আয়োজকরা মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ জনের দল বেঁধে দিয়েছে। শেফ দ্য মিশন ঘোষণা করেছেন, পতাকা বহন করবেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী এবং কারাতকা হুমাঈরা আক্তার অন্তরা। এই দুই ক্রীড়াবিদকে দেশের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
এশিয়ান গেমস চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় এবং এশিয়ার সবচেয়ে বড় বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ২০২৫ সালের এই আসর জাপানের দুই শহরে বিস্তৃত হবে, যা আগে কখনো হয়নি। বাংলাদেশের জন্য এই গেমস কেবল পদকের হিসাব নয় — এটি দেশের ক্রীড়া-ব্যবস্থাপনা, ট্রেনিং-কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি পরীক্ষা। ১৯৭৮ সাল থেকে প্রায় আড়াই দশকের যাত্রায় ১৪ পদকের এই সংখ্যা বলছে, বর্তমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে না। জাপানে যাওয়ার আগেই প্রশ্নটা পরিষ্কার: বাজেট বরাদ্দ, ট্রেনিং-সময়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা — এই তিন স্তম্ভে যদি মৌলিক সংস্কার না আসে, তবে পরবর্তী আসরেও একই চিত্র পুনরাবৃত্তি হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ২০ ক ট ট ক য় ২৬০?২০ ক ট ট ক য় ২৬০ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ২০ ক ট ট ক য় ২৬০ matter?২০ ক ট ট ক য় ২৬০ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.