AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

লোডশেডিংয়ের প্রভাব সড়কবাতিতেও, রাতে চলাচলে ভোগান্তি

Published September 8, 2026 · Updated September 8, 2026 · By Patricia Smith - banglalight.com

Foto : Patricia Smith - banglalight.com

জ্বালানি সংকটের ছায়ায় ঢাকার রাস্তা: লোডশেডিং যখন আলো নেভে যায়, তখন শুরু হয় নিরাপত্তার সংকট

Banglalight.com – ল ডশ ড য় র প রভ - দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন আর কেবল গৃহস্থালি বা শিল্পখাতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘনঘন বিচ্ছিন্নতা ঘটে যাওয়ায় নগর পরিকল্পনার একটি মৌলিক উপাদান—সড়ক আলোকায়ন—ও প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংকীর্ণ গলিগুলো সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন চলাচলে গভীর ঝুঁকি তৈরি করছে।

জ্বালানি সংকটের ফলে সারা দেশে বিদ্যুৎ লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতা যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকে থাকে, তখন সড়কের ল্যাম্প পোস্টে সংযুক্ত আলোও একই সঙ্গে নিভে যায়। ফলাফল: দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরো সড়ক অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই পরিস্থিতি শুধু অসুবিধার সীমায় থেমে থাকে না—দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে, ছিনতাই ও চুরির ঝুঁকি বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে অন্ধকারেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

রাতের সড়কে যা দেখা যায়

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে এই পরিস্থিতির প্রকৃত রূপ চোখে পড়ে। ব্যস্ত সড়ক হোক, সংকীর্ণ গলি হোক, কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মোড়—বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সড়কবাতি নিভে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না ফিরলে সড়কের কোনো অংশে আলোর আভাসও থাকে না।

নগরবাসীদের মতে, সড়কবাতির মূল উদ্দেশ্যই হলো রাতের সড়কে পর্যাপ্ত দৃশ্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে যদি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা—যেমন জেনারেটর বা সোলার-চালিত ব্যাকআপ—সড়কবাতি চালু রাখতে না যায়, তাহলে জনসাধারণকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে পথচারী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অন্ধকার সড়ক অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

পথচারী ও চালকদের অভিজ্ঞতা

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে এলিফ্যান্ট রোডের সড়কবাতিও নিভে যায়। ওই মুহূর্তে সড়কে থাকা পথচারী আবু হাকিমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন:

"বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পুরো সড়ক অন্ধকার হয়ে যায়। গাড়ির আলো ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। হাঁটতে গেলে সামনে কে আসছে বা কোথায় গর্ত আছে, সেটিও বোঝা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় অন্ধকারে একজনের মোবাইল টান মেরে নিয়ে গেছে।"

মোটরসাইকেল চালক নোমান আলীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, সড়কবাতি বন্ধ থাকলে রাস্তার অবস্থা ঠিকমতো দেখা যায় না। সামনে হঠাৎ পথচারী বা রিকশা চলে এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্ধকারে রাস্তার ফাটল, গর্ত বা বাধা চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঢাকার একটি অ্যাপের মাধ্যমে রাইডশেয়ারিং পরিষেবা প্রদানকারী মিতুল হাসানও একই সমস্যার শিকার। তিনি বলেন:

"রাতে যখন বাইকে রাইডশেয়ারিং করি, হুটহাট করে অনেক সড়কের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ির আলো দিয়ে চলাচল করতে হয়। ঢাকার সড়কে এমনিতেই অনেক জায়গায় গর্ত। কোথায় গর্ত থাকে বোঝা যায় না। কয়েকদিন আগেই গর্তে চাকা চলে গেলে বাইক নিয়ে পড়ে গেছি।"

তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও সড়কের ল্যাম্প পোস্টগুলোর আলো যেন চালু থাকে—এই ব্যবস্থা নেওয়া এখন জরুরি।

প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির গভীরতা

জ্বালানি সংকটের পটভূমিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘনঘন বিচ্ছিন্নতা একটি কাঠামোগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত তেল ও গ্যাস নির্ভর, আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। ফলে লোডশেডিং এখন আর অস্থায়ী ঘটনা নয়—এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে।

সড়ক আলোকায়ন নগর নিরাপত্তার একটি মৌলিক স্তম্ভ। আন্তর্জাতিক নগর পরিকল্পনা মানদণ্ড অনুযায়ী সড়কবাতিতে কোনো বিচ্ছিন্নতা সহ্যযোগ্য নয়, কারণ অন্ধকার সড়ক শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়—এটি অপরাধেরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে রাতের সড়কে হাজারো মানুষ চলাচল করেন; তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।

বিকল্প ব্যবস্থা: যা এখন প্রয়োজন

বাসিন্দাদের দাবি স্পষ্ট—বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময় সড়কবাতি চালু রাখার জন্য বিকল্প শক্তি উৎসের ব্যবস্থা করতে হবে। সোলার-চালিত ল্যাম্প, ব্যাকআপ জেনারেটর বা ব্যাটারি-চালিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এই ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান হতে পারে। এছাড়া সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে আলো চালু থাকলেও ফাটল বা গর্তের কারণে ঝুঁকি না তৈরি হয়।

জ্বালানি সংকটের সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কিন্তু তার অপেক্ষায় নগরবাসীর নিরাপত্তা যেন অপেক্ষায় না থাকে—এই দাবি এখন আর বিলম্বের নয়, তাৎক্ষণিক।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ল ডশ ড য় র প রভ?

ল ডশ ড য় র প রভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ল ডশ ড য় র প রভ matter?

ল ডশ ড য় র প রভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.