AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নূরুল ইসলাম / ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Lisa Gonzalez - banglalight.com

Foto : Lisa Gonzalez - banglalight.com

দুর্ভিক্ষের স্মৃতি তুলে ধরে খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বের কথা বললেন চিফ হুইপ

Banglalight.com – ন র ল ইসল ম ১৯৭৪ - জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি রাজধানীর রাস্তায় অসংখ্য মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফার্মগেট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কের পাশের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন নীতি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবেশ নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন।

“১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ফার্মগেট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।”

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রসঙ্গ

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দুর্ভিক্ষের সেই কঠিন সময়ের পর দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছিল। তিনি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল এবং খাদ্যপণ্য রপ্তানিরও সূচনা হয়েছিল।

খাদ্যনিরাপত্তা কোনো একটি মৌসুম বা একটি খাতের বিষয় নয়; এটি কৃষক, বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। চিফ হুইপের বক্তব্যে দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান কৃষিনীতির আলোচনার মধ্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব উঠে আসে। দেশের মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।

বর্তমান বিএনপি সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমামদের জন্য ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া। কৃষকের উৎপাদন-সংক্রান্ত সহায়তা, পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের আমলে সম্পাদিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো কয়েকটি চুক্তিও সরকারের বিবেচনায় এসেছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নীতির মূল কথা হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

“সবার আগে বাংলাদেশ।”

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে—এমন অবস্থানের কথাই তিনি তুলে ধরেন। বন্দর, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সমঝোতার মতো বিষয়গুলো সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সেগুলো পর্যালোচনার গুরুত্বও তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

ব্যাংক খাত ও আর্থিক সুরক্ষা

অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং দেশের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার প্রসঙ্গেও কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করেছেন। তাঁর বক্তব্যে এই পদক্ষেপকে আর্থিক খাতের সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ব্যাংক খাত নিয়ে যেকোনো আইন বা সংশোধনী জনস্বার্থের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঞ্চয়, ঋণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থার সঙ্গে এ খাতের সম্পর্ক রয়েছে। চিফ হুইপের বক্তব্যে অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমানো এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনসভার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে কোনো বিশেষ দলের নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না; তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন। সরকারের কাজের মূল্যায়ন দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত—এমন বার্তাও এতে উঠে আসে।

“তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী।”

বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটে মানুষের দুর্ভোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকারের সদিচ্ছা বা উদ্যোগের কোথাও ঘাটতি দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্টদের জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনসেবামূলক খাতে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাদ্য, স্বাস্থ্য বা আর্থিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নাগরিক জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এসব বিষয়ে জনগণের অভিজ্ঞতা ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও চিফ হুইপের বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়।

সংসদে শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের আহ্বান

সংসদীয় আলোচনায় বাকস্বাধীনতা চর্চার সুযোগ রাখার পাশাপাশি শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা, বিতর্ক এবং সমালোচনা থাকাই স্বাভাবিক। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের প্রতি গণতন্ত্র পুনর্গঠন, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সংঘাতের বদলে কার্যকর সংসদীয় বিতর্কের মধ্যে রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।

সংবাদ সম্মেলনে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন র ল ইসল ম ১৯৭৪?

ন র ল ইসল ম ১৯৭৪ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন র ল ইসল ম ১৯৭৪ matter?

ন র ল ইসল ম ১৯৭৪ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.