AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

কোদাল হাতে খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের

Published September 12, 2026 · Updated September 12, 2026 · By Patricia Smith - banglalight.com

Foto : Patricia Smith - banglalight.com

কুলকুরমাই খাল পরিচ্ছন্নতায় কোদাল হাতে নামলেন এমপি হুমাম কাদের

Banglalight.com – ক দ ল হ ত খ ল - রাঙ্গুনিয়াকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে খাল, জলাশয় এবং জনপরিসর রক্ষায় ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ৮টার দিকে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এমপি হুমাম কাদের নিজেই কোদাল হাতে খালের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে কাজ করেন। স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে তিনি প্লাস্টিক, ময়লা-আবর্জনা এবং কচুরিপানা সরানোর কাজে যুক্ত হন।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে পর্যটনের সম্পর্ক

রাঙ্গুনিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ, খাল ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবন সুরক্ষিত রাখতে পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়টিও বিশেষভাবে আসে। জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আবর্জনার স্তূপ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে; তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক—দুই পর্যায়েই সচেতনতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

একটি এলাকার পর্যটন সম্ভাবনার সঙ্গে তার পরিবেশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। খালপাড়, বাজারসংলগ্ন এলাকা কিংবা গ্রামীণ জনপথে বর্জ্য জমে থাকলে তা শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করে না, মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। এ কারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে একদিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।

কৃষি ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ কুলকুরমাই খাল

কুলকুরমাই খালটি রোয়াজারহাট বাজার এবং কুলকুরমাই গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুমাই বিল ও ইছামতী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কার্যক্রম ও পানি নিষ্কাশনে খালটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খালের পানি ব্যবহার করে কুলকুরমাই, মুরাদনগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে খালের বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিক, গৃহস্থালি বর্জ্য ও কচুরিপানা জমতে থাকে। এতে পানির স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও পানি জমে থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। পানি চলাচল ব্যাহত হলে কৃষিজমিতে সেচ, অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া এবং বর্ষাকালের পানি ব্যবস্থাপনাতেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

খালের সঙ্গে বিল ও নদীর সংযোগ থাকায় এর প্রবাহ ঠিক রাখা কেবল একটি এলাকার বিষয় নয়। পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ হলে তার প্রভাব কৃষিজমি, বসতি এবং স্থানীয় পরিবেশে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক গতিপথ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

কৃষকদের প্রত্যাশা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

স্থানীয় কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজে অনেক চাষি কুলকুরমাই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। তাঁর মতে, শুধু একবার পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; খালটিকে নিয়মিত পরিচর্যার মধ্যে রাখতে হবে এবং দখল ও দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই খালের পানির ওপর অনেক কৃষকের চাষাবাদ নির্ভর করে। খালটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা গেলে এবং দখল-দূষণ বন্ধ করা গেলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

কৃষকদের জন্য খাল পরিষ্কার থাকার অর্থ হলো পানির সহজলভ্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কৃষিজমি খালের পানির সঙ্গে সম্পর্কিত, সেখানে জলপথের পরিচর্যা স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত। এ কারণে খাল রক্ষার উদ্যোগে কৃষক, বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

আবর্জনা ফেলা বন্ধে সামাজিক দায়িত্বের তাগিদ

স্থানীয় বাসিন্দা জহির উদ্দিন বাবর জানান, খালের নানা স্থানে বর্জ্য ও কচুরিপানা জমে পরিবেশের অবনতি হচ্ছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খালটির চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে পরিষ্কারের পর আবার যেন কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ও কচুরিপানা জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এখন পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়ায় খালের চেহারা বদলাতে শুরু করেছে। তবে পরিষ্কার করার পর যেন কেউ আবার খালে ময়লা ফেলতে না পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

খাল পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা। প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা পানিতে জমলে তা দ্রুত অপসারণ না করলে প্রবাহ কমে যায়। কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়লেও পানির চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক প্রচার এবং নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিমত, কেবল একটি দিনের স্বেচ্ছাশ্রমে খালকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করা সম্ভব নয়। বর্জ্য অপসারণের ধারাবাহিক ব্যবস্থা, দখলমুক্ত পরিবেশ, পানিপ্রবাহে বাধা দূর করা এবং খালে আবর্জনা না ফেলার অভ্যাস—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের এলাকার খাল রক্ষায় বাসিন্দাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণও সমান জরুরি।

কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের এ কর্মসূচি সেই সম্মিলিত দায়িত্বের বার্তাই সামনে এনেছে। পরিচ্ছন্ন খাল কৃষিকাজে সহায়তা করতে পারে, দুর্গন্ধ ও দূষণ কমাতে পারে এবং রাঙ্গুনিয়ার পরিবেশবান্ধব পরিচিতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ক দ ল হ ত খ ল?

ক দ ল হ ত খ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক দ ল হ ত খ ল matter?

ক দ ল হ ত খ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.