AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অনলাইনে সাংবাদিক কার্ড: করণীয় নির্ধারণে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন ইসির

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Patricia Gonzalez - banglalight.com

Foto : Patricia Gonzalez - banglalight.com

সাংবাদিকদের নির্বাচনি কার্ডে অনলাইন ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরিতে ইসির নতুন উদ্যোগ

Banglalight.com – অনল ইন স ব দ ক ক - নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের জন্য কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও কার্যকর করতে সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ উদ্দেশ্যে সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার এ তথ্য জানান।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে Software Requirement Specification বা এসআরএস তৈরি করা। একটি সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করবে, সেখানে কোন ধরনের তথ্য নেওয়া হবে, আবেদন যাচাইয়ের ধাপ কী হবে এবং কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয় এসআরএসে নির্ধারিত থাকে। ফলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা তৈরির আগে প্রয়োজনীয় কাঠামো ঠিক করার কাজ করবে কমিটি।

আবেদন থেকে কার্ড পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সুপারিশ

ইসি সচিব আখতার আহমেদের জারি করা কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, অনলাইনে আবেদন গ্রহণের শুরু থেকে কার্ড প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিয়ে সুপারিশ দিতে হবে সদস্যদের। সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহ, সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই, অনুমোদন এবং পরে কার্ড দেওয়ার পদ্ধতি—সবকিছুই সফটওয়্যারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংবাদকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজের সুবিধা পান। তাই আবেদনকারী, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশন—তিন পক্ষের জন্যই প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। নতুন কমিটি সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

কমিটির কার্যপরিধিতে এসআরএস তৈরির ধারাবাহিকতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ কেবল একটি অনলাইন ফরম তৈরি করাই লক্ষ্য নয়; নিবন্ধন থেকে শুরু করে যাচাই ও কার্ড বিতরণ পর্যন্ত সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দিকেই নজর দেওয়া হবে। এতে কোন তথ্য বাধ্যতামূলক হবে, কারা তা যাচাই করবে এবং অনুমোদনের পর কীভাবে কার্ড দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত নির্দেশনা তৈরির সুযোগ থাকবে।

যাঁরা রয়েছেন কমিটিতে

১২ সদস্যের কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম। সদস্য হিসেবে আছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার।

এ ছাড়া রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল এবং সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলাও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তাও এই দলে রয়েছেন। সাংবাদিক সংগঠন, তথ্য-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে যুক্ত করার ফলে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন—দুই দিকই আলোচনায় আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্যও যুক্ত করতে পারবে। বিশেষজ্ঞ মতামত বা নির্দিষ্ট কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোঅপ্ট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সফটওয়্যার পরিকল্পনায় তথ্য সুরক্ষা, ব্যবহারকারীর সুবিধা এবং যাচাই প্রক্রিয়ার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত দক্ষতা যুক্ত করার এই বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আগের অনলাইন কার্ড প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য অনলাইনে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় পরীক্ষামূলক ব্যবহার ছাড়াই দ্রুত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পরে ওই সাইটে আবেদন করা প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য প্রকাশের এই ঘটনায় গণমাধ্যমে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং দেশজুড়ে সমালোচনা দেখা দেয়। আপত্তির মুখে নির্বাচন কমিশন সে সময়ের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে। ঘটনাটি অনলাইন ব্যবস্থাপনায় তথ্য সুরক্ষা, পূর্বপরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।

অনলাইন নিবন্ধন থেকে কার্ড ইস্যু পর্যন্ত সব কার্যক্রমের বিষয়ে সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে নতুন কমিটি।

এবার নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি কোনো ব্যবস্থা চালুর বদলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ব্যবহারযোগ্য সফটওয়্যার তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসআরএস প্রণয়নের মাধ্যমে সফটওয়্যার নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় শর্ত, ব্যবহারকারীর চাহিদা এবং পরিচালনাগত ধাপগুলো লিখিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের জন্য এর তাৎপর্য হলো, আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং কার্ড পাওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার কাঠামো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের জন্য আবেদন যাচাই ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধাপগুলো আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে সফটওয়্যার তৈরির সময় নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং বাস্তব ব্যবহারের বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পায় তার ওপর।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে সফটওয়্যার উন্নয়ন এগোবে। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিকদের কার্ড ব্যবস্থাপনায় আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও স্থিতিশীল ও আস্থাযোগ্য প্রক্রিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is অনল ইন স ব দ ক ক?

অনল ইন স ব দ ক ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does অনল ইন স ব দ ক ক matter?

অনল ইন স ব দ ক ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.