AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটার মামলায় স্ত্রীর ৭ বছরের সাজা

Published September 16, 2026 · Updated September 16, 2026 · By Anthony Davis - banglalight.com

Foto : Anthony Davis - banglalight.com

বংশালে পারিবারিক বিরোধে স্বামীকে কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় স্ত্রীর সাজা

Banglalight.com – স ব ম র গ পন ঙ - রাজধানীর বংশাল এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে কাঁচি দিয়ে গুরুতর জখম করার মামলায় মোছা. রুমা আক্তারকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায় তাকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুই ধারায় পৃথক সাজা ও জরিমানা

আদালতের সিদ্ধান্তে কাঁচি দিয়ে আঘাত করার অপরাধে রুমা আক্তারকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

গুরুতর জখমের অভিযোগেও তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়েও আরও এক মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দুই ধারায় দেওয়া কারাদণ্ড একসঙ্গে চলবে; ফলে দণ্ডিতকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে।

ফলে রায়ে দুই মামলায় সাজা পৃথকভাবে উল্লেখ থাকলেও কারাদণ্ডের মেয়াদ যোগ হয়ে সাত বছর হবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দণ্ড দুটি একই সময়ে চলবে। এ কারণে কার্যকর কারাভোগের সর্বোচ্চ সময় চার বছর নির্ধারিত হয়েছে।

বিয়ে ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট

মামলার নথিতে বলা হয়, সিয়াম ও রুমা আক্তারের বিয়ে হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। বিয়ের পর তারা রাজধানীর কসাইটুলী এলাকায় একটি পৃথক বাসায় থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ তৈরি হতো বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিয়াম বাইরে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। বাইরে খেয়ে বাসায় আসাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই বিরোধ আরও গুরুতর ঘটনায় গড়ায় বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিয়াম ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রুমা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গের একটি অংশ কেটে দেন। ঘটনাটির সময় ধস্তাধস্তি হলে সিয়ামের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলেও রক্তাক্ত জখম হয়।

ঘটনার দিনই মামলা

এ ঘটনার দিন সিয়ামের বাবা বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, সাক্ষ্য ও অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৫ মে বংশাল থানার উপপরিদর্শক ফেরদৌস আলম রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার মাধ্যমে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যায়।

পরে ১০ নভেম্বর রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের অর্থ হলো, আদালত বিচার শুরুর জন্য আনা অভিযোগগুলো বিবেচনার উপযোগী মনে করেছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সাক্ষ্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ

বিচার চলাকালে মামলায় তালিকাভুক্ত ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এসব সাক্ষ্যের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য উপকরণও বিচারিক বিবেচনায় আসে।

রুমা আক্তারও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ফৌজদারি বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ পর্যায়ে অভিযুক্ত নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন এবং তার পক্ষে থাকা তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পান।

সাক্ষ্য, অভিযোগের বিবরণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত রুমা আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। রায়ের মাধ্যমে মামলার বিচারিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেষ হলেও কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ কার্যকরের বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে।

রায়ের তাৎপর্য

এই মামলায় আদালত একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অপরাধের জন্য পৃথক সাজা নির্ধারণ করেছেন। তবে সাজা একসঙ্গে চলার নির্দেশ থাকায় মোট দণ্ডের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: পৃথকভাবে তিন বছর ও চার বছরের সাজা থাকলেও কার্যকর কারাভোগের মেয়াদ চার বছর।

পারিবারিক বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিলে তার প্রভাব ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে ফৌজদারি বিচার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের, পুলিশি তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ধাপ অতিক্রম করে আদালতের রায় এসেছে।

আদালতের রায়ে দুই দফা পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানার কথাও উল্লেখ রয়েছে। উভয় জরিমানা অনাদায়ে পৃথকভাবে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স ব ম র গ পন ঙ?

স ব ম র গ পন ঙ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ব ম র গ পন ঙ matter?

স ব ম র গ পন ঙ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.