শেয়ারবাজারে ধস, ভেঙে গেল ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট
ডিএসইএক্স-১০০-এর একদিনেই ১০৩ পয়েন্টের পতন: ৬ হাজারের মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল ভেঙে পড়ল
Banglalight.com – শ য রব জ র ধস ভ - রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর — সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স-১০০ একদিনেই ১০৩ পয়েন্টের ঝাঁকে নেমে গেল ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে। এর মানে হলো, বাজারের দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট লেভেল ৬ হাজার পয়েন্টের দেয়াল একদিনেই ভেঙে পড়েছে। একই দিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআইও ১৭১ পয়েন্টের পতন দেখেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের তীব্র পতনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা গুজবের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে অর্থনীতির গভীর দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত প্রত্যাশার সংশোধন।
বাজারের দিনভর চিত্র: প্রথম ঘণ্টার উত্থান থেকে শেষ পর্যন্ত ধস
দিনের লেনদেন শুরু হওয়ার পর প্রথম কিছু মুহূর্তে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম সামান্য বাড়ে। ফলে সূচকের শুরুর উত্থান দেখা যায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পর বাজারে রীতিমতো ধসের প্রবণতা শুরু হয়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম নামতে থাকে, এবং এই প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, দাম কমার তালিকায় প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা হয়েছে।
লভ্যাংশ-ভিত্তিক গ্রুপভিত্তিক পারফরম্যান্স
ভালো মানের কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ১৬৮টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে চিত্র আরও তীব্র — এই গ্রুপের ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোরই শেয়ার দাম কমেছে, একটিও বেড়েছে না। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান না করার কারণে 'জেড' গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে, ১0৬টির দাম কমেছে এবং ১০টির অপরিবর্তিত। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ৭টির দাম বেড়েছে, ১৯টির কমেছে এবং ৮টির অপরিবর্তিত।
সূচক-নির্দিষ্ট পতনের বিস্তারিত
ডিএসইএক্স-১০০ আগের দিনের তুলনায় ১০৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ২২ পয়েন্টের পতনে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস
মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের মোট পরিমাণও কমেছে। এদিন লেনদেন হয়েছে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম। এই লেনদেনে শীর্ষ স্থানে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ — কোম্পানিটির ২০ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে মালেক স্পিনিংস (২০ কোটি ২০ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল (১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা)। শীর্ষ-১০ তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সাউথাম টেক্সটাইল, সাউথাম কটন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনভি টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চিত্র
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৭টির দাম কমেছে এবং ১৭টির অপরিবর্তিত। সিএএসপিআই সূচক ১৭১ পয়েন্টের পতন দেখেছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার তুলনায় কিছুটা বেশি।
বিশ্লেষকের মতামত: প্রত্যাশার সংশোধন ও গভীর অর্থনৈতিক চাপ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন:
নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই বাজার দ্রুত বেড়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন না থাকায় বাজারে এখন সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে বাজারে নতুন কোনো আইপিও আসেনি এবং দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বরং বিদ্যমান শিল্পগুলো জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। একদিকে জ্বালানি সংকটে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংকঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর অর্থের ব্যয়ও বাড়ছে।
একদিকে জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তার ক্যাপাসিটি রান করতে পারছে না, অন্যদিকে আপনার যে লোনটা দিচ্ছে ব্যাংক থেকে, সেটা হয়তো ১৪-১৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ার দ্বৈত চাপে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশের ওপরও।
তিনি মনে করেন, এই অবস্থায় বাজার ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এমন প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে একদিনে ১০০ পয়েন্টেরও বেশি পতনকে তিনি অস্বাভাবিক বলে চিহ্নিত করেন এবং এত বড় পতনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ য রব জ র ধস ভ?শ য রব জ র ধস ভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ য রব জ র ধস ভ matter?শ য রব জ র ধস ভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.