AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বান্ধুবীর বাবার ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশু, হত্যার পর ঘরেই মাটিচাপা

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Anthony Davis - banglalight.com

Foto : Anthony Davis - banglalight.com

মাদারগঞ্জে শিশুহত্যার ঘটনায় শোক, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি

Banglalight.com – ব ন ধ ব র ব ব - জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাত বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম নিহত শিশুটির এক সহপাঠী ও বান্ধবীর বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে পাঠানোর পর তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয় শিশু

গত বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটি প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়। কিন্তু কিছু সময় পর তার মা মেয়ের খোঁজ নিতে স্কুলে গেলে জানতে পারেন, সে সেখানে পৌঁছায়নি। এরপর পরিবার ও স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন।

শিশুটিকে খুঁজে পেতে আশপাশের পুকুর ও নালায় তল্লাশি চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসও এ কাজে সহযোগিতা করে। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও তার কোনো খোঁজ না মেলায় ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। স্কুলপড়ুয়া একটি শিশুর এভাবে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার, প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠায় ছিলেন।

পরিচিত বাড়িতে যাওয়ার সুযোগে হামলার অভিযোগ

মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সাংবাদিকদের জানান, নিহত শিশুটি জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই স্কুলে যেত। দুজনের বন্ধুত্বের কারণে শিশুটি প্রায়ই তাদের বাড়িতে খেলতে যেত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন জামিলুল ইসলামের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে যান। সে সময় বাড়িতে জামিলুল একা ছিলেন। শিশুটি সেখানে গেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর আলামত ও মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের বসতঘরের ভেতর মেঝে খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ সেখানে পুঁতে রাখেন। পরিচিত একটি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের সুযোগকে কেন্দ্র করে এমন অপরাধের অভিযোগ স্থানীয়দের আরও বেশি মর্মাহত করেছে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের দুই দিন পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বাড়ির ভেতরের মাটি খুঁড়ে সেখান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের সঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে রোববার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।

দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা হত্যা সংক্রান্ত, আর ২০১ ধারা অপরাধের প্রমাণ গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলায় ৩৪ ধারা যুক্ত হওয়ায় একাধিক ব্যক্তির অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হবে।

আদালতে জবানবন্দি

আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশি তদন্ত, আলামত সংগ্রহ, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং আদালতের কার্যক্রম—সব মিলিয়ে মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার এমন অভিযোগ কোনো পরিবারের জন্য শুধু একটি ফৌজদারি মামলাই নয়; এটি নিরাপত্তাবোধ, আস্থা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গভীর আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি হলেও অপরাধের দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর।

কোনো শিশু নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছালে বা হঠাৎ নিখোঁজ হলে দ্রুত পরিবার, স্থানীয় মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক সময়ের অনুসন্ধান পরবর্তী তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

স্বজনদের কান্না ও বিচারের দাবি

শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় স্তব্ধ। স্বজনেরা দ্রুত ও কার্যকর বিচারের দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির মামা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেবো বলেন। আল্লাহ গো, এর বিচার কি হবে? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দিবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দিবেন না। কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি, খালি রায় হয়েছে কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয় নাই।

পরিবারের এই বক্তব্যে তাদের অসহায়তা, ক্ষোভ এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষ করে অভিযোগের সব দিক আদালতে উপস্থাপন এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার দাবি এখন এলাকাবাসীরও।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব ন ধ ব র ব ব?

ব ন ধ ব র ব ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ন ধ ব র ব ব matter?

ব ন ধ ব র ব ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.