দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর
দখল দ ষণ আর ভর টে সংকটে হাকালুকি হাওর
Banglalight.com – দখল দ ষণ আর ভর ট ব - দখল দ ষণ আর ভর টের চাপে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওর ক্রমেই হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। জুড়ী নদীসহ হাওরের সঙ্গে যুক্ত ১০টি নদী এবং অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া দিয়ে বর্জ্য ও বালু এসে জমছে হাওরে। এর ফলে বিল ভরাট হচ্ছে, জলাধারের গভীরতা কমছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই হাওরের আয়তন প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে বিলের আয়তন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর লাখো মানুষের মাছ ধরা ও কৃষিকাজনির্ভর জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
পলি, বালু ও বর্জ্যে কমছে হাওরের গভীরতা
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পলি ও বালু জমে হাওরের প্রায় শতাধিক বিল ভরাট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কাগজে-কলমে ২৩৮টি বিল থাকলেও প্রায় অর্ধেক বিলের অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। কয়েক বছর আগে যে বিলগুলোর গভীরতা ৩০ থেকে ৩৫ ফুট ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোতে তা নেমে এসেছে ১৫ থেকে ২০ ফুটে।
জুড়ী, সুনাই ও পানাই নদী হাকালুকি হাওরের প্রধান প্রবাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। উজান থেকে আসা বালি নদীতে জমে চর সৃষ্টি করছে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণেও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে হাওরের পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দূষণে বিপন্ন মাছ ও জলজ পরিবেশ
জুড়ী নদীর পুরোনো সেতু থেকে নতুন সেতু হয়ে জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক, জুতা, পানীয়ের বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ নানা বর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। জুড়ী উপজেলা বাজারের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় নদীতে ময়লা ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এসব বর্জ্য বাধাহীনভাবে গিয়ে পড়ে হাকালুকি হাওরে।
কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, নির্বিচারে সেচ দিয়ে মাছ শিকার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবও হাওরের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যে পরিমাণ দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, এখন তা অনেক কমে গেছে। জলজ উদ্ভিদও আগের তুলনায় কমে এসেছে।
হাওর সংরক্ষণে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখলমুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় খননের উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।
হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দখল দ ষণ আর ভর টের কারণে বিলের গভীরতা দ্রুত কমছে। কোনো কোনো এলাকায় একসময় ১৫ থেকে ২০ ফুট পানি থাকলেও এখন সেখানে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি পাওয়া যায়। বিলগুলো সময়মতো খনন না করলে আগামী এক দশকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
হাকালুকি হাওর রক্ষায় কী প্রয়োজন
হাওর রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সংযুক্ত নদী ও ছড়াগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখলকৃত জায়গা উদ্ধার এবং বিল খননের উদ্যোগ প্রয়োজন। হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ কিছু উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর
হাকালুকি হাওর কোথায় অবস্থিত?
হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত।
হাওরটি কেন ভরাট হচ্ছে?
সংযুক্ত নদী ও পাহাড়ি ছড়া দিয়ে আসা পলি-বালু, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য, পানি প্রবাহে বাধা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হাওরের বিলগুলো ভরাট হচ্ছে।
হাকালুকি হাওর সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ কী?
বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখলমুক্তকরণ, বিল খনন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দখল দ ষণ আর ভর ট ব?দখল দ ষণ আর ভর ট ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দখল দ ষণ আর ভর ট ব matter?দখল দ ষণ আর ভর ট ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.