AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত

Published September 7, 2026 · Updated September 7, 2026 · By William Thomas - banglalight.com

Foto : William Thomas - banglalight.com

কর্মজীবনের মাঝে স্বপ্নের পথে পা রাখতে গিয়েই শেষ যাত্রায় নামলেন শেখ মিশা খাতুন

Banglalight.com – ব স এস র ভ ইভ দ - খুলনার একজন কর্মরত পরীক্ষকের জীবন শেষ হয়ে গেল গোপালগঞ্জের কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। শেখ মিশা খাতুন — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী — ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। পথেই তাঁর জীবন থেমে গেল। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর এই ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়।

বিসিএস: বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির প্রবেশদ্বার

বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পথে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষা হলো সবচেয়ে কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপ। প্রতি বছর লাখোয়া প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় — যাকে ভাইভা বলা হয় — পৌঁছাতে পারে মাত্র অল্প সংখ্যক প্রার্থী। এই পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করে একজন প্রার্থী কি না কি সরকারি সেবায় যুক্ত হবেন। তাই অনেক কর্মরত পেশাজীবীও নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই পরীক্ষার জন্য আলাদা সময় ও শক্তি বরাদ্দ করেন। শেখ মিশা খাতুনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল — তিনি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও নিজের ভবিষ্যৎ আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই পরীক্ষার ভাইভায় অংশ নিতে রাজধানীর পথে যাত্রা করেছিলেন।

দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও নিহতের পরিচিতি

মিশা খাতুন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে (বিএসটিআই) খুলনা শাখায় পরীক্ষক (কেমিক্যাল) পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ছিল রসায়ন-নির্ভর মানসম্মততা পরীক্ষার ক্ষেত্রে। এই পেশায় স্থিতিশীলতা পাওয়ার পরেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ৩৫তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর একাডেমিক যাত্রা চলমান ছিল, আর পেশাগত দায়িত্বও তাঁকে খুলনায় আবদ্ধ রেখেছিল। এই দুই জগতের মাঝে তিনি প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

৫০তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আসার পথে গোপালগঞ্জ এলাকার কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। এই দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয় — যা তিনি আরও একটি স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে শুরু করেছিলেন।

ডাকসুর শোকবার্তা ও সমবেদনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কার্যালয় থেকে এক শোকবার্তা প্রকাশ করে এই ঘটনার তথ্য জানায়। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা সেই বার্তায় বলা হয়:

একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সবার মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

বার্তায় মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়েছে।

একজন কর্মরত পেশাজীবীর একাডেমিক অগ্রযাত্রা: বড়ো প্রশ্ন

মিশা খাতুনের মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির জীবনের শেষ নয় — এটি বাংলাদেশের একাডেমিক ও পেশাজীবী জগতের একটি বড়ো প্রশ্নকে সামনে আনে। কর্মজীবনে স্থিতিশীলতা পাওয়ার পরেও কেন একজন পেশাজীবী আরও উচ্চতর যোগ্যতা অর্জনের পথে পা রাখেন? বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভাইভা ধাপে পৌঁছাতে গিয়ে তাঁরা কতটা ঝুঁকি নেওয়ার প্রস্তুতি রাখেন? সড়ক নিরাপত্তার অভাবিত অবস্থা এই ঝুঁকিকে কতটা বাড়িয়ে দেয়?

বাংলাদেশে প্রতি বছর বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য হাজারো প্রার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আসেন। তাদের যাতায়াতের পথে সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক জটিলতা, এবং অন্যান্য ঝুঁকি নিত্যনৈমিতিক। একজন কর্মরত পেশাজীবী যিনি প্রতিদিনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁর জন্য এই যাত্রা আরও ক্লান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিশা খাতুনের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন কেড়ে নেয়।

পরিবার ও একাডেমিক সম্প্রদায়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর মৃত্যু সেই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর শোকের কারণ। একই সঙ্গে বিএসটিআই-র খুলনা শাখার কর্মী-কর্মচারীদের জন্যও তিনি ছিলেন একজন সহকর্মী ও বিশ্বস্ত পেশাজীবী। তাঁর পরিবারের জন্য এই হারানো অপূরণীয়।

ডাকসুর শোকবার্তায় যেভাবে বলা হয়েছে — একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি — এই কথাটি মিশা খাতুনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি শুধু একজন পরীক্ষার্থী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন কর্মরত পেশাজীবী, একজন একাডেমিক শিক্ষার্থী, এবং একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। এই তিনটি পরিচয়ের সমন্বয়ই তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল।

গোপালগঞ্জের কাছে এই দুর্ঘটনার পরিক্রমা এখনও পরিবার ও একাডেমিক সম্প্রদায়ের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়। মিশা খাতুনের স্মৃতি তাঁর সহপাঠী, সহকর্মী, এবং পরিবারের কাছে চিরকাল বেঁচে থাকবে — তাঁর অসম্পূর্ণ স্বপ্নসহ।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব স এস র ভ ইভ দ?

ব স এস র ভ ইভ দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব স এস র ভ ইভ দ matter?

ব স এস র ভ ইভ দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.