AMP
Banglalight
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিভাগে তালা

Published September 6, 2026 · Updated September 6, 2026 · By Charles Brown - banglalight.com

Foto : Charles Brown - banglalight.com

পাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগে শিক্ষার্থীদের তালাবদ্ধ কর্মকাণ্ড: চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে নতুন অধ্যায়

Banglalight.com – প ব প রব র স থ - পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগে এক দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিভাগের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এই তালাবদ্ধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানুর পদত্যাগের দাবি তুলে ধরেন। তালা ঝুলানোর কিছুক্ষণ আগেই একই দাবিতে রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্মের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন শিক্ষার্থীরা।

আবেদনে কী কী অভিযোগ

লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অক্ষমতা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ, একাডেমিক মূল্যায়ন ও মার্কিং ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য এবং স্টুডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি — এসবই আবেদনে উল্লিখিত মূল অভিযোগের মধ্যে রয়েছে।

এছাড়া ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে অসহযোগিতা, সেমিস্টার প্রজেক্ট ও একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা, কেন্দ্রীয় রুটিন থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া, সেশনজট এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা — এসব বিষয়ও আবেদনে স্থান পেয়েছে।

স্টুডেন্ট ফান্ড নিয়ে প্রশ্ন

আবেদনের পাশাপাশি স্টুডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের চিত্র স্পষ্ট। শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল এই প্রসঙ্গে বলেন,

আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ফান্ডে এক লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছিল। এই টাকা কোথায়, কখন এবং কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। বর্তমানে সমিতির অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই।

এক লাখের বেশি টাকার নিখোঁজ হওয়া এবং হিসাব-নিকাশের অভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা একটি মৌলিক দায়িত্ব; এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের আস্থা হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

বিভাগে অন্তঃকোন্দলের প্রেক্ষাপট

তবে এই আন্দোলনকে সব শিক্ষার্থী সমর্থন করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী এই কর্মকাণ্ডকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভাগের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়েছেন।

আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সব সময় পিছিয়ে আছে। বিভাগের শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দলের কারণে আমাদের আগের ব্যাচগুলোর পাঠোপাশ শেষ করতে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। বিভাগের নামে যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আন্দোলন করানো হচ্ছে।

আট বছর পর্যন্ত পাঠোপাশ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা বিভাগীয় পর্যায়ে একাডেমিক কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদী অবনতি তুলে ধরেন। স্থাপত্য শিক্ষা একটি উচ্চ-পর্যায়ের কারিগরি ক্ষেত্র, যেখানে সেমিস্টার প্রজেক্ট, স্টুডিও কাজ এবং পেশাদার প্রশিক্ষণের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ অপরিহার্য। এই প্রবাহে দীর্ঘমেয়াদী বাধা তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের পেশাজীবনে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলোকে 'বানোয়াট' ও 'চক্রান্ত' বলে দাবি করেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানু। তিনি বলেন,

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের কেউ আমার কাছে এসে বলেনি যে, ম্যাম, সমিতির টাকার হিসাব দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট তাদের হাতে যাওয়ার কথা না। তারা যেটা দেখাচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট।

চেয়ারম্যানের এই প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগের সারমর্মকে পুরোপুরি অস্বীকারের ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। তবে তালাবদ্ধ কর্মকাণ্ড এবং লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিভাগীয় সংকট এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে একটি জরুরি বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জমা দেওয়া মানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে অবহিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসতে পারে।

সংকটের বড় ছবি

পাবিপ্রবি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যার স্থাপত্য বিভাগ দেশের স্থাপত্য পেশায় বিশেষজ্ঞ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার অভাব মিলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অধিকার ও পেশাগত ভবিষ্যৎ উভয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তালাবদ্ধ কর্মকাণ্ড একটি চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া; এটি তখনই আসে যখন শিক্ষার্থীরা মনে করেন নিয়মিত অভিযোগ প্রক্রিয়ায় সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখন দায়িত্ব এই সংকটকে স্বচ্ছ ও সময়মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরসন করা, যাতে স্থাপত্য শিক্ষার প্রবাহ আরও বিঘ্নিত না হয়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প ব প রব র স থ?

প ব প রব র স থ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প ব প রব র স থ matter?

প ব প রব র স থ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.