National

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

og_1789528815_6aaa0aefd4d19
Foto : Lisa Gonzalez - banglalight.com
Table of Contents
  1. বাংলাদেশে সাপ দেখলেই আতঙ্ক নয়, আগে প্রয়োজন সঠিক পরিচয়
  2. সাপ দেখলে কী করা উচিত
  3. Related Reading
  4. Frequently Asked Questions

বাংলাদেশে সাপ দেখলেই আতঙ্ক নয়, আগে প্রয়োজন সঠিক পরিচয়

Banglalight.com – ব ল দ শ সবচ য় ব – বাড়ির আঙিনা, ধানখেত, ঝোপঝাড় কিংবা পুকুরপাড়ে সাপ দেখা গেলে অনেকেই সেটিকে বিষধর ধরে নেন। এই ভয় থেকে সাপ চেনার আগেই প্রাণীটিকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ সাপ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে থাকা সাপের প্রায় ৮০ শতাংশই নির্বিষ।

দেশে সাপের আবাসও একরকম নয়। কিছু প্রজাতি জলাশয়ঘেঁষা এলাকায় থাকে, কিছু গাছে বা ঘন পাতার আড়ালে, আবার কিছু মানুষের বসতির কাছে আশ্রয় নেয়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম. মনিরুল এইচ. খানের ফটোগ্রাফিক গাইড টু দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ গ্রন্থে ১০৫ প্রজাতির সাপের উল্লেখ আছে। যদিও এর মধ্যে ২৪ প্রজাতির দেশে উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত নয়। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে মূল্যায়ন করা হয়েছে ৮১ প্রজাতির সাপ।

কয়েকটি সাপ দেশের নানা অঞ্চলে তুলনামূলক পরিচিত। তাদের মধ্যে সবগুলোই বিষধর নয়; বরং পরিচিত প্রজাতিগুলোর অনেকেরই পরিবেশে ভূমিকা রয়েছে।

ঢোঁড়া: জলাশয়ের আশপাশের পরিচিত সাপ

বাংলাদেশের বহুল দেখা সাপগুলোর একটি ঢোঁড়া। এর বৈজ্ঞানিক নাম Xenochrophis piscator; ইংরেজিতে চেকার্ড কিলব্যাক বা এশিয়াটিক ওয়াটার স্নেক নামে পরিচিত। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের তালিকায় এটি অনুন্যতম সংকটাপন্ন বা ‘লিস্ট কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত।

পুকুর, খাল, ধীর স্রোতের নদী, হ্রদ, জলাভূমি, মাছের খামার এবং ধানক্ষেত—পানির কাছাকাছি এমন পরিবেশে ঢোঁড়া বেশি পাওয়া যায়। শহর বা গ্রামের বাড়ির পাশের জলাশয়েও এদের দেখা মিলতে পারে। ছোট অবস্থায় এরা ব্যাঙের ডিম, ব্যাঙাচি, ছোট ব্যাঙ ও পোকামাকড় খায়। বড় হলে মাছ, ব্যাঙ, টিকটিকি, ইঁদুর এবং ছোট পাখিও শিকার করতে পারে।

ঢোঁড়া নির্বিষ। তবে কোণঠাসা বা বিপদে পড়লে আত্মরক্ষায় কামড় দিতে পারে। সাধারণত বাদামি শরীরের ওপর কালো ও হলুদ ছোপ এর একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

লাউডগা: পাতার ভেতর মিশে থাকা বৃক্ষচারী সাপ

লাউডগা, বা সুতানলি, বাংলাদেশের পরিচিত গাছে বসবাসকারী সাপের নাম। আইইউসিএনের রেড লিস্টে Ahaetulla nasuta ও Ahaetulla prasina—দুই প্রজাতির স্থানীয় নাম হিসেবেই লাউডগার উল্লেখ রয়েছে। দুটি প্রজাতিই অনুন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত।

লম্বা, অতিমাত্রায় সরু এবং সবুজ দেহের জন্য এই সাপ গাছের পাতা ও ডালের মধ্যে সহজে আড়াল হয়ে যায়। বন, বাগান, ঝোপ এবং বসতবাড়ির আশপাশের গাছেও এদের পাওয়া সম্ভব। দিনের আলোয় এরা বেশি সক্রিয় থাকে এবং অধিকাংশ সময় গাছেই অবস্থান করে।

টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও অন্য ছোট প্রাণী এদের খাদ্য। শিকার ধরতে গাছের ডালে দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে অপেক্ষা করতে পারে। লাউডগা বিষধর নয়, কিন্তু বিরক্ত হলে কামড়ে দিতে পারে।

“লাউডগা বিষধর না হলেও চট করে কামড় দিয়ে ফেলে।” — অধ্যাপক ফরিদ আহসান

কালনাগিনী: নামের সঙ্গে ‘নাগিনী’ থাকলেও গোখরা নয়

উজ্জ্বল নকশা ও রঙের জন্য কালনাগিনী সহজেই নজর কাড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopelea ornata এবং ইংরেজি নাম অর্নেট ফ্লাইং স্নেক। নামের কারণে একে অনেক সময় বিপজ্জনক নাগজাতীয় সাপ মনে করা হয়, কিন্তু এটি গোখরা বা কেউটে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এটি মূলত বৃক্ষবাসী। বনাঞ্চল, বাগান, ঘন ঝোপ কিংবা গাছপালায় ভরা এলাকায় কালনাগিনীর দেখা মেলে। এক গাছ থেকে আরেক গাছে যাওয়ার সময় শরীর চ্যাপ্টা করে বাতাসে ভেসে কিছু দূর এগোতে পারে। এই বিশেষ চলন থেকেই ইংরেজি নামের ‘ফ্লাইং স্নেক’ অংশটি এসেছে।

টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও বাদুড়সহ ছোট প্রাণী এদের খাদ্যতালিকায় থাকে। দিনের বেলায় এই সাপ বেশি সক্রিয়। এটি হালকা বিষধর হলেও মানুষের জন্য সাধারণত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত নয়।

“কালনাগিনী দেখতে খুব সুন্দর। এই সাপ খুবই হালকা বিষধর। তবে এখন পর্যন্ত ওই বিষে কোনো মানুষ মারা যায়নি।” — অধ্যাপক ফরিদ আহসান

ঘরগিন্নী: মানুষের বসতির কাছের নিশাচর অতিথি

মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে দেখা যায় বলেই সম্ভবত এই সাপের নাম ঘরগিন্নী। আইইউসিএনের তালিকায় Lycodon aulicus, Lycodon zara ও Lycodon zawiসহ একাধিক প্রজাতির স্থানীয় নামের সঙ্গে ঘরগিন্নী যুক্ত রয়েছে।

দেয়ালের ফাঁক, ইটের স্তূপ, পুরোনো স্থাপনা, গাছের বাকল ও আড়ালযুক্ত জায়গা এদের আশ্রয় হতে পারে। দিনের বেলা লুকিয়ে থেকে রাতের দিকে খাবারের সন্ধানে বের হয়। টিকটিকি ও স্কিঙ্কজাতীয় ছোট সরীসৃপ এদের প্রধান শিকার। বাড়িতে টিকটিকির উপস্থিতি বেশি থাকলে খাদ্যের খোঁজে ঘরেও ঢুকে পড়তে পারে। ছোট ইঁদুরসহ অন্য ক্ষুদ্র প্রাণীও খায়।

ঘরগিন্নী বিষধর নয়। শরীরের রঙ ও দাগের কারণে ভুল করে একে ক্ষতিকর সাপ ভেবে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এটি খুব পরিচিত বলেও উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক ফরিদ আহসান।

পাতি দুধরাজ: নানা পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া নির্বিষ প্রজাতি

পাতি দুধরাজের বৈজ্ঞানিক নাম Coelognathus helena এবং ইংরেজিতে এটি কমন ট্রিঙ্কেট স্নেক নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের পরিচিত নির্বিষ সাপগুলোর একটি। ঝোপঝাড়, বনাঞ্চলের প্রান্তভাগ, কৃষিজমি এবং লোকালয়ের আশপাশেও এ সাপ দেখা যেতে পারে।

পাতি দুধরাজ সাধারণত মাটিতে চলাচল করে, তবে প্রয়োজন হলে গাছেও উঠতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে টিকে থাকার সক্ষমতার কারণে মানুষের কাছাকাছি এলাকাতেও এদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।

সাপ দেখলে কী করা উচিত

অপরিচিত সাপ দেখলে সেটিকে ধরা, তাড়া করা বা মারার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। দূরত্ব বজায় রেখে শিশু ও পোষা প্রাণীকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। সাপটি ঘর বা জনবসতিতে থাকলে স্থানীয় বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারীর সহায়তা নেওয়া সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

সাপের কামড়ের ঘটনায় ঘরোয়া চিকিৎসা, ক্ষত কাটা, বিষ চুষে নেওয়া বা শক্ত করে বাঁধন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি। সাপকে অকারণে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব রাখা মানুষ ও বন্যপ্রাণী—দুই পক্ষের জন্যই ভালো সিদ্ধান্ত।

Frequently Asked Questions

What is ব ল দ শ সবচ য় ব?

ব ল দ শ সবচ য় ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ল দ শ সবচ য় ব matter?

ব ল দ শ সবচ য় ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment