Entertainment

পুরস্কার জিতে ইসরায়েলি নির্মাতারা পেলেন নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি

og_1789389399_6aa7ea57798e5
Foto : Karen Davis - banglalight.com
Table of Contents
  1. ভেনিসে পুরস্কারের পর ‘নাজা’ নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ভেনিসে পুরস্কারের পর ‘নাজা’ নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি

Banglalight.com – প রস ক র জ ত ইসর – ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার জয়ের পর তথ্যচিত্র ‘নাজা’কে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ছবিটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোরকে ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার।

গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত কাঠামোগত বিষয়গুলোকে ‘নাজা’র মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ছবিটির পরিচিতিতে। এই বিষয়বস্তুর কারণেই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ কাড়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের ভেতরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভেনিসে দীর্ঘ করতালি ও বিশেষ জুরি পুরস্কার

উৎসবে ‘নাজা’ প্রদর্শনের পর দর্শকেরা প্রায় ২৪ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এটিকে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ করতালিগুলোর একটি, এমনকি দীর্ঘতম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিক্রিয়া ছবিটির প্রতি দর্শকদের গভীর আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

পরে ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর তাদের নির্মাণের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করেন। পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ছবিটি কেবল উৎসবের আলোচনায় নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কেও জায়গা করে নেয়।

চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার সাধারণত নির্মাতার শিল্পভাবনা, নির্মাণশৈলী ও বিষয় নির্বাচনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং বেসামরিক মানুষের অভিজ্ঞতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় উঠে এলে একটি তথ্যচিত্র শিল্পের সীমা ছাড়িয়ে জনপরিসরের বিতর্কে পরিণত হতে পারে। ‘নাজা’কে কেন্দ্র করে এখন ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী জোহারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে ‘চমকপ্রদ’ আখ্যা দিলেও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন।

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলবিরোধী মানুষের প্রশংসা পাওয়ার লক্ষ্যে নির্মাতারা নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক ভাষ্য, নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাষ্ট্রের সমালোচনার সীমা নিয়ে প্রশ্ন আরও সামনে এসেছে।

তবে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি প্রসঙ্গে ইউভাল আব্রাহাম বা র‍্যাচেল জোরের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে মন্ত্রীর ঘোষণার পর সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ বা নির্মাতাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

পুরস্কার মঞ্চে আব্রাহামের বক্তব্য

ভেনিসে পুরস্কার নিতে গিয়ে ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সমালোচনার মুখে ছবিটি নিয়ে কথা বলা তাঁর জন্য সহজ নয়। তাঁর বক্তব্য, অনেকে চলচ্চিত্রটি না দেখেই এর বিরোধিতা করছেন অথবা এতে উত্থাপিত বিষয়গুলো অস্বীকার করছেন।

কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

আব্রাহামের মতে, এ কারণেই ইসরায়েলি নাগরিকদের ‘নাজা’ দেখা জরুরি। তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও চলচ্চিত্রটি দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে চলচ্চিত্রকে আলোচনার একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে অস্বস্তিকর বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার বদলে তা দেখা ও বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।

তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে নির্মাতারা প্রায়ই এমন সব প্রশ্ন সামনে আনেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত সমাজে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। সমালোচকেরা একটি কাজের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন, আবার নির্মাতারা সেই কাজকে বাস্তবতা দেখার আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। ‘নাজা’কে ঘিরে বর্তমান প্রতিক্রিয়া এই দ্বন্দ্বকেই স্পষ্ট করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলচ্চিত্রটি

‘নাজা’র ভেনিস-সাফল্য একদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়, অন্যদিকে তা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ২৪ মিনিটের করতালি ও বিশেষ জুরি পুরস্কারের পর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ছবিটিকে নতুন মাত্রায় আলোচিত করেছে।

এখানে বিতর্কটি শুধু একটি চলচ্চিত্র ভালো না খারাপ—সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। বরং রাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে শিল্পীর অবস্থান, আন্তর্জাতিক উৎসবে একটি দেশের প্রতিনিধিত্বের ধারণা এবং নাগরিক পরিচয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সম্পর্ক—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

নির্মাতাদের বক্তব্য ও মন্ত্রীর অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থানগত দূরত্ব রয়েছে। এক পক্ষ ছবিটিকে গাজার বেসামরিক মানুষের বাস্তবতা তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ এটিকে দেশের ক্ষতিকর উপস্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ‘নাজা’ এখন চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকের পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদেরও মনোযোগে রয়েছে।

ভেনিসে পাওয়া প্রশংসা চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে, আর নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি তার সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন উদ্বেগ। ফলে ‘নাজা’র যাত্রা এখন কেবল একটি পুরস্কারজয়ী তথ্যচিত্রের গল্প নয়; এটি শিল্প, রাষ্ট্র, সমালোচনা এবং জনমতের সংঘাতেরও একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Frequently Asked Questions

What is প রস ক র জ ত ইসর?

প রস ক র জ ত ইসর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প রস ক র জ ত ইসর matter?

প রস ক র জ ত ইসর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment