হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন
Table of Contents
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথির ওপর হামলা: আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে মামলা দায়ের করলেন
Banglalight.com – হ মল র ঘটন য় ইত ল – ইতালির ভেনিসে চলমান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন অভিনেতা আজমেরী হক বাঁধন। উৎসবের মাঝপথে স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তাঁর ওপর একদল ব্যক্তির হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই বাঁধন ইতালীয় পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিপক্ষে অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হামলার রাত: পার্কে ঘুরতে গিয়ে আঘাত ও অপমান
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভেনিসের একটি স্থানীয় পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় বাঁধনের ওপর কয়েকজন ব্যক্তির হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর গায়ে কোক ও ডিম ছোড়ে, শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং মোবাইল ফোন ছুঁড়ে ফেলে। বাঁধনের অভিযোগ, তাঁকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়। এছাড়া তীব্র গালিগালাজিও করা হয়। হামলার সময় বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই বাঁধন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। সেই বার্তায় তিনি বলেন,
আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।
ভিডিওতে তিনি ভেনিসে উপস্থিত সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিষয়টি জানানোর অনুরোধও করেন। তিনি বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন, আশা করি আপনারা তার কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।
মামলা দায়ের ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তা ভেনিসে এসে বাঁধনের পাশে দাঁড়ান। এই দুই কর্মকর্তা এবং ইতালীয় পুলিশের সঙ্গে থানায় গিয়ে বাঁধন মামলা সম্পন্ন করেন। অপরাধীদের ভিডিওচিত্র পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে একটি পোস্টে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাঁধনের সঙ্গে ফোনে বিস্তারিত কথা হয়েছে। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন,
আজমেরী হক বাঁধন আওয়ামী লীগের কর্মীদের নামে মামলা করেছেন। এইমাত্র ফোনে বিস্তারিত কথা হলো বাঁধনের সঙ্গে। ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের দুজন অফিসার আজ ভেনিসে এসেছিলেন। এই দুই অফিসার এবং ইতালিয়ান পুলিশের সঙ্গে থানায় গিয়ে বাঁধন মামলা সম্পন্ন করেছেন।
উৎসব আয়োজকদের সাড়া ও বাঁধনের অবস্থান
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ বাঁধন উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। উৎসবের একজন অতিথির ওপর আক্রমণের ঘটনা তাই আয়োজকদের জন্য গুরুতর। তারা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন।
মূলত দুই দিনের জন্য ভেনিসে থাকার পরিকল্পনা ছিল বাঁধনের। কিন্তু উৎসব আয়োজকরা এখন বলেছেন, যে কয়দিন ইচ্ছা বাঁধন থাকতে পারবেন। তাঁর সবকিছুর ব্যবস্থা তারা করবে। উৎসব শেষে বাঁধন ঢাকায় ফিরে আসবেন, মামলা চলমান থাকবে। দূতাবাস ও বাঁধনের ভাইয়ের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ রাখবে। কোনো পর্যায়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাঁধনকে আবার ভেনিসে যেতে হতে পারে। পুলিশ বাঁধনের কাছে জানতে চেয়েছে, তিনি আসতে পারবেন কি না। বাঁধন উত্তর দিয়েছেন, ‘অবশ্যই আসবো’।
সরকারি পর্যায়ের মনোভাব ও কৃতজ্ঞতা
গোলাম মোর্তোজা জানান, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিস্তারিত কিছু এখনই বলছি না। সম্মত জানানো হবে।’ বাঁধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমে বাঁধনকে নিপীড়নের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে একজন আমন্ত্রিত অতিথির ওপর এমন আক্রমণের ঘটনা তাই ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পটভূমি: ‘রেহানা মরিম নূর’ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি
অভিনেতা আজমেরী হক বাঁধন ‘রেহানা মরিম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেছেন। এই চলচ্চিত্র তাঁকে বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। উৎসবটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানিত চলচ্চিত্র উৎসব, যেখানে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে থেকে নির্মাতা, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পেশাদাররা অংশ নেন। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধির ওপর হামলার ঘটনা তাই কেবল ব্যক্তিগত নয়, দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের প্রশ্নও তুলে ধরেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is হ মল র ঘটন য় ইত ল?
হ মল র ঘটন য় ইত ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does হ মল র ঘটন য় ইত ল matter?
হ মল র ঘটন য় ইত ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.