দুই সাবমেরিন ক্যাবলেই নির্ভরতা, বাড়ছে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ঝুঁকি
Table of Contents
দুটি সাবমেরিন ক্যাবলেই সারাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ: বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোতে গভীর ঝুঁকি
Banglalight.com – দ ই স বম র ন ক – ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রতি দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার হারে বাড়ছে বাংলাদেশে। অথচ এই চাহিদা পূরণের মূল মাধ্যম — সাবমেরিন ক্যাবল — নির্মাণে দেশটি বিশ্বের পিছিয়ে পড়ে আছে। ভারতের সমুদ্রতল দিয়ে চলে ২০টি সাবমেরিন ক্যাবল, পাকিস্তানের আছে সাতটি, কিন্তু বাংলাদেশের হাতে মাত্র দুটি। এই সংখ্যাগত ঘাটতি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য-প্রযুক্তি খাত এবং সাধারণ নাগরিকের ইন্টারনেট-সেবা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে।
ব্যান্ডউইথের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ চাহিদা
বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যান্ডউইথের কোনো তাত্ক্ষণিক সংকট নেই। তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণ না হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশটি ব্যান্ডউইথ-সংকটে পৌঁছাতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রয়োজন হবে ৫০ টেরাবিট পার সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ। বর্তমান অবস্থা থেকে — ১২ টিবিপিএস — এই লাফ পূরণ করতে নতুন তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে একাধিক নতুন ক্যাবল দেখা যাবে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই নির্মাণ হবে।
সরকারি ক্যাবল: দুটির বাইরে অগ্রগতি নেই
বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল — সি-মি-উই-৪ এবং সি-মি-উই-৫। এগুলোর মাধ্যমেই দেশের প্রায় সমস্ত আন্তর্জাতিক ডেটা-ট্রাফিক চলে। সরকারিভাবে আরেকটি ক্যাবল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তাতে কোনো মানে-যুক্ত গতি নেই। ফলে দেশের পুরো ডিজিটাল সংযোগ একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ভঙ্গুর অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি কনসোর্টিয়াম: ৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, কিন্তু অনুমোদনের বাধা
২০২৩ সালের শেষ দিকে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণের লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান — বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেমের (বিপিসিএস) অধীনে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড — যৌথভাবে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে। এই কনসোর্টিয়াম ইতোমধ্যে প্রকল্পে ৩২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। দেশের সাতটি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমোদন-প্রক্রিয়া এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ফরওয়ার্ডিং না দেওয়ার কারণে পুরো প্রকল্প আটকে আছে।
বেসরকারি উদ্যোগে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ফরওয়ার্ডিং না পাওয়ায় আটকে আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমোদনের বিষয় থাকলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে ফরওয়ার্ডিং না দেওয়ায় তারা প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পারছে না।
এ কথা জানান সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান। তিনি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও স্পষ্ট করে বলেন, এখনো সরাসরি কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি। সরকার বিভিন্ন বিষয়ে বিটিআরসির সঙ্গে কথা বলছে, কিন্তু কোম্পানির কাছে সরাসরি কোনো চাহিদা জানানো হয়নি। তার মতে, বেসরকারি কোম্পানির ফোকাল পয়েন্ট হলো বিটিআরসি।
প্রাইভেট ক্যাবলের সম্ভাব্য প্রভাব: দাম, গুণগত মান ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব
মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিমের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্ত হলে ইন্টারনেটের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাবে। কোয়ালিটি অব সার্ভিসে ২৫-৩০ শতাংশ উন্নতি আসবে, ল্যাটেন্সি কমে যাবে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হারে ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটবে। তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হবে। তার মতে, বেসরকারি ক্যাবলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি নয় — বরং আইটিসি, অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল।
ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের ব্যান্ডউইথ আমদানিতে প্রতিবেশী ভারতকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অর্থ দিয়ে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণ সম্ভব ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে এগিয়ে চললেও বাংলাদেশে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ভূরাজনৈতিক প্রভাবও এই সমীকরণে একটি জটিল উপাদান হিসেবে কাজ করে।
মন্ত্রণালয়ের অবস্থান: কনসোর্টিয়াম গঠনে প্রশ্ন
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের কোনো পূর্বানুমোদন ছাড়া আলাদাভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কনসোর্টিয়াম গঠনের সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কোম্পানিগুলোকে স্বতন্ত্র লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং তারা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া নিজেদের কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে।
আগামী ২০৩০ সালে ৫০টিবিপিএস ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে। ১২টিবিপিএস থেকে ৫০টিবিপিএস, এটি একটি সাবমেরিন ক্যাবল না, দুটি না, নতুন তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল প্রয়োজন। এটি পূরণের জন্য আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে শুধু একটি না, একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল দেখা যাবে। এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে যেমন হবে তেমনি বেসরকারিভাবেও এগিয়ে আসবে।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের এই বিবৃতি স্পষ্ট করে দেয় যে সরকার নিজেও বেসরকারি খাতের ভূমিকা স্বীকার করে। তবে বাস্তবে অনুমোদন-প্রক্রিয়ার ধীরগতি, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা মিলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ফেলে রেখেছে। দুটি পুরনো ক্যাবলেই নির্ভরশীল একটি দেশের ইন্টারনেট-ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ — এবং উত্তর দিতে বাকি আছে মাত্র কয়েক বছর।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ই স বম র ন ক?
দ ই স বম র ন ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ই স বম র ন ক matter?
দ ই স বম র ন ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.